সরেজমিনে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি ও রাজাপুর দুই উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যেকটি পরিবারই মুড়ি ভাজা নিয়ে ব্যাস্ত সময় পার করছেণ। শোনা যায় মাটির হাড়ির টুং টাং শব্দ। হাজারো মানুষের কর্মকাজের মধ্য দিয়ে হাতে ভাজা এ মুড়ি দক্ষিনাঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে সারা দেশে রপ্তানি করে থাকে। রমজান মাসে রোজাদারদের কাছে ইফতারীর প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যাবহার হচ্ছে অতি সু-স্বাদু ও মিষ্টি মোটা চালের মুড়ি। মুড়ি তৈরীর কারিগররা জানান, রমজান মাসের চাহিদা তো রয়েছেই তারপরও সারা বছর হাজার হাজার মন মুড়ি এ এলাকা থেকে পাইকার ও আড়তদাররা সরবরাহ করে। সারবিহীন হাতে ভাজা এ মুড়ি স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় সাধারন মানুষের কাছে এ মুড়ি জনপ্রিয় ব্যাপক।
সরেজমিনে নলছিটি উপজেলার তিমিরকাঠির মুড়ি আড়তদার মো. গিয়াসউদ্দিন খানের সাথে আলাপকালে জানান, এক সময়ে দেশের অণ্য ১০ টি গ্রামের মতই এ গ্রামের লোকেরা নিজেদের প্রয়োজনে মুড়ি ভাজতেন। ১৯৮৫ সালে পার্শ্ববর্তী গ্রাম জুরকাঠির বাসিন্দা আমজেদ মুড়ি ভেজে তা বাজারে বিক্রি শুরু করলে তিমিরকাঠির বেশকিছু পরিবার সংসারের বাড়তি আয়ের জন্য মুড়ি ভেজে বিক্রি শুরু করে। মুড়ি তৈরীর কারিগর দেলোয়ার, খাদিজা জানান, এ এলাকায় মুড়ির জন্য উপযোগী মোটা, নাখুচী ও সাদা মোটা নামের ৩ প্রজাতির ধান ভাল ফলে বলে মুড়ি উৎপাদন করতে ভাল হয়। বানিজ্যিকভাবে মুড়ি ভাজার সঙ্গে ৩ যুগ ধরে জড়িত ভুইয়া বাড়ির ৪২ ঘরের সবাই মুড়ি ভাজার পেশায় নিয়োজিত। দৈনিক গড়ে ১শ’ কেজি মুড়ি ভাজতে পারলে খরচ বাদ দিয়ে ৭/৮শ’ টাকা লাভ হয়। তবে নিজেরা ধান কিনে সিদ্ধ করে শুকিয়ে মুড়ি ভেজে শহরে নিয়ে বিক্রি করলে দ্বি-গুন লাভ হয়। তাই স্বল্প পূজিঁ খাটালে একজন বিক্রেতা শুধুমাত্র রমজান মাসে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করতে পারে বলে জানা।
সরেজমিনে রাজাপুর উপজেলার মেডিকেল মোড় সংলগ্ন মুড়িপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি বাড়িতে মুড়ি ভাজার ধুম চলছে। মুড়ি ভাজতে চাল নিয়ে আসা দূর-দূরান্তের মানুষদের দীর্ঘ লাইনও চোখে পড়ার মতো। মুড়ি ভাজার ফাকে আলাপকালে কারিগড় মিতু রানী দাসের জানান, ষাট থেকে সত্তর বছর পর্যন্ত মুড়ি গ্রামে মুড়ি ভাজা চলে আসলেও সে নিজে ২৫/৩০ বছর পর্যন্ত মুড়ি ভেজে চলেছেন। প্রতিদিন তারা একেক জনে আড়াই থেকে তিন মণ মুড়ি ভাজেন। মুড়িভাজা কারিগর অনিতা রানী দাস জানান, অনেক দূর থেকে মানুষজন চাল নিয়ে তাদের কাছে মুড়ি ভাজাতে আসেন। প্রতিকেজি চালে আগে ১০ থেকে ১২ টাকা ভাজার খরচ নেয়া হলেও এখন একটু বাড়তি চাপ ও চুলার জ্বালানির খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৫ টাকা নেয়া হচ্ছে। শুধু রমযান মাসে মুড়ির চাহিদা একটু বেশি থাকলে এক মাস তারা ব্যস্ত সময় পার করলেও বছরের অন্যসময় তাদের কাজের চাপ কমে যায়। এক্ষেত্রে সরকারী সহযোগীতায় বছরের অন্যান্য সময়েও তারা মুড়ি বাজা ও বাজারজাত করনের সংশ্লিষ্ট থাকতে পারলে তারা সবাই কিছু বাড়তি আয়ের মুখ দেখতে পারে।
এ সব এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলাপকালে জানান, গ্রাম এলাকার মানুষেরা কৃষি কাজের বাইরে বাড়তি আয়ের তেমনকোন সুযোগ পায়না।সেখানে এ সব এলাকার অধিবাসীরা নিজেদের প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্যকর মুড়িভেজে বিক্রি করে কিছুটা হলেও বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এঅবস্থায় সরকারী বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মুড়ি ভাজা ও বাজারজাত করনের মাধ্যমে পল্লী এলাকার এসব পরিবারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সহ স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পারে।{ source-- http://www.bdnationalnews.com }